ইরানে একদিকে সরকারের কড়া হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে আরো বিক্ষোভের ডাক

0

ইরানের কর্তৃপক্ষ সরকার বিরোধী বিক্ষোভের ব্যাপারে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেও সামাজিক মাধ্যমে অজ্ঞাতপরিচয় পোস্ট থেকে সারা ইরান জুড়ে শনিবার আরো বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়েছে।

ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক নির্দেশে এ ধরণের কোন বিক্ষোভে অংশ না নেয়ার জন্য জনগণকে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছে, এই বিক্ষোভ অবৈধ।

হাজার হাজার মানুষ গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন শহরের বিক্ষোভে অংশ নেয় – যা মূলত জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানাতে শুরু হলেও পরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পরিণত হয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আজ আরও অনেক বিক্ষোভের ভিডিও পোস্ট করা হয়, যাতে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন শহরে খন্ড খন্ডভাবে লোকজন এতে যোগ দিচ্ছে।

ইরানছবির কপিরাইটবিবিসি
Image captionসামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ছবি

তেহরানের একেবারে কেন্দ্রে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও বিক্ষোভ হতে দেখা যাচ্ছে।

বিক্ষোভকারীরা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি এবং সেখানে ইসলামী বিপ্লবের নেতাদের ক্ষমতা ছাড়ার দাবি জানিয়ে শ্লোগান দিচ্ছে।

তবে রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমের খবরে দাবি করা হচ্ছে, আজ সরকারের সমর্থনে হাজার হাজার মানুষ মিছিল করছে। সরকারের সমর্থকরা আজ মাঠে নেমেছে এবং সরকার নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন চ্যানেলে দাবি করা হচ্ছে, হাজার হাজার মানুষ সরকারের পক্ষে মিছিলে যোগ দিয়েছে।

যেভাবে গত কয়েকদিনে ইরানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, তা সরকারকে কিছুটা হতচকিত করে দিয়েছে। এই বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করা হবে বলেও সরকার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে।

মূলত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ শুরু হলেও তা এখন সরকার বিরোধী বিক্ষোভে রূপ নিয়েছে।

ইরানছবির কপিরাইটবিবিসি
Image captionকোম শহরে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ: সামাজিক মাধ্যমের ভিডিও

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বলে ইরানকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন যে, কিভাবে সেখানকার সরকার এই বিক্ষোভের মোকাবেলা করছে তার ওপর সারা দুনিয়া নজর রাখছে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ এবং ‘সুযোগ সন্ধানী’ বলে নাকচ করে দিয়েছেন।

তবে এই বিক্ষোভের পেছনে যে ইরানে ব্যাপক সামাজিক অসন্তোষও একটা কারণ হতে পারে, তার পরোক্ষভাবে কিছুটা স্বীকার করছেন সরকারের কেউ কেউ।

প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির একজন উপদেষ্টা হিশামুদ্দিন আশেনা টুইটারে এক পোস্টে লিখেছেন, ইরানের সামনে বেকারত্ব, জিনিসপত্রের উচ্চ মূল্য, দুর্নীতি, বৈষম্য এরকম অনেক গুরুতর চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

জনগণের কথা যেন শোনা হয়, সেই অধিকার তাদের আছে। ২০০৯ সালে একই রকমের এক সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ইরান সরকার কঠোরভাবে দমন করেছিল।

Share.
মন্তব্য লিখুনঃ

 

',