গাইবান্ধার ফুলছড়িতে টি আর কাবিখা নিয়ে হট্রগোলের ঘটনায় উপঃ চেয়ারম্যান এর সংবাদ সম্মেলন


Admin   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ১৪ জুন, ২০২০

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় টি আর কাবিখা প্রকল্পের ভাগাভাগি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা’র প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ফুলছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম সেলিম পারভেজ।

শনিবার দুপুর ১২ টায় গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সেলিম পারভেজ বলেন, তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, আওয়ামী যুবলীগ ও সর্বশেষ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে যথাযথ দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া জনগণের বিপুল ভোটে ফুলছড়ি উপজেলার চেয়ারম্যান হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এবং বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডে নিজেকে উৎসর্গ করার পাশাপাশি নাশকতাকারী, সহিংসতাকারী বিএনপি-জামায়াত শিবিরের বিরুদ্ধে তার অবস্থান সবসময় সুদৃড় ছিলো এবং আছে। কিন্তু কিছুদিন যাবত স্থানীয় সাংসদ ডেপুটি স্পিকারের লোকজন আমার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কুৎসা রটাচ্ছেন এবং উপজেলা পরিষদ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছেন।

এরই প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে উপজেলার প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের প্রকল্প বাস্তবায়ন সভায় ( টি আর, কাবিখা) শতকরা ৮০ ভাগ বরাদ্দ ইউনিয়ন পরিষদে এবং বাকি ২০ ভাগ বরাদ্দ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় লোকজনের জন্য রাখার প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু তারা বলছেন, এই ২০ ভাগ বরাদ্দ আমি চেয়েছি। এসময় এমপি সাহেবের স্বাক্ষরিত ডিও লেটারের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ২০ ভাগ স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া এমপির জন্য বরাদ্দ দেয়ার প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এসময় কোন আইনে ২০ ভাগ প্রকল্প এমপি সাহেবকে দিতে হবে জানতে চাইলে স্পিকারের লোকজন উত্তেজিত হয়ে হট্রগোলের সৃষ্টি করেন। এসময় সম্মেলন কক্ষের সামনে থাকা চেয়ার, ফুলের টবসহ অন্যান্য আসবাবপত্র ভাংচুর করে আমাকে লাঞ্চিত করে। এই ঘটনার সাথে সাথে আমি ফুলছড়ি থানায় একটি এজাহার দাখিল করি। অপরদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের একজন কর্মচারীকে দিয়ে আমার নেতাকর্মী ও সাধারন জনগণের নামে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করেন। আমি এই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দায়েরের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানাই।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ২০ ভাগ বরাদ্দ উপজেলা চেয়ারম্যান চেয়েছে মর্মে খবর প্রকাশ করে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং পাশাপাশি ষড়যন্ত্রে লিপ্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নয়া মিয়া, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ফিরোজ কবির ছাকা, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম জাভেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, ত্রান ও সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা কামাল পাশা, ফুলছড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাজহারুল হান্নান, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মামুন মিয়া, স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।