মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে চট্টগ্রামের উত্তর কাট্টলী লকডাউন


Admin   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ১৫ জুন, ২০২০

করোনাভাইরাসের মোকাবেলায় আগামী মঙ্গলবার (১৬ জুন) মধ্যরাত থেকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ১০ নং উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডকে কঠোর লকডাউনের আওতায় আনা হচ্ছে। কঠোর এই লকডাউন আগামী ১৬ জনু থেকে টানা ২১ দিনব্যাপী চলবে।

সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ১০টি ওয়ার্ডকে করোনা সংক্রমণ প্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে রেড জোনের আওতায় আনা হয়েছে। ১০ নং উত্তর কাট্টলী ছাড়াও রেড জোন চিহ্নিত নগরীর অন্যান্য ওয়ার্ডগুলো হলো, চট্টগ্রাম বন্দর এলাকার ৩৭ ও ৩৮ নং ওয়ার্ড, পতেঙ্গার ৩৯ নং ওয়ার্ড, কোতোয়ালীর ১৬, ২০, ২১ ও ২২ নং ওয়ার্ড, খুলশীর ১৪ নং ওয়ার্ড এবং হালিশহর এলাকার ২৬ নং ওয়ার্ড।

করোনা প্রতিরোধে গঠিত কেন্দ্রীয় টেকনিক্যাল কমিটির শনিবারের অনুষ্ঠিত সভায় দেশের বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম নগরীর উল্লেখিত এলাকাগুলোকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চিহ্নিত এলাকার সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন এবং পুলিশ সুপার মিলে  সুনির্দিষ্টভাবে এসব রেড জোন  চিহ্নিত করেছেন। চিহ্নিত এলাকায় প্রতি ১ লাখ জনসংখ্যায় বিগত ১৪ দিনে ৭ জন আক্রান্ত হয়েছে এমন এলাকাগুলোকেই রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

টেকনিক্যাল কমিটির এই সিদ্ধান্তের আওতায় চট্টগ্রাম নগরীতে এই প্রথম আগামী ১৬ জুন থেকে লকডাউন কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এভাবে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত ১০টি ওয়ার্ডকে পর্যায়ক্রমে লকডাউনের আওতায় আনা হবে।

সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নতুনভাবে জোন ভিত্তিক লকডাউন এলাকা ঘোষণার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে কার্যকর করার জন্য আজ বিকেলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সমন্বয় বৈঠকে সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন এই তথ্য জানান।

এ সময় তিনি বলেন, সরকার একই সঙ্গে লকডাউন চলাকালীন চিহ্নিত এলাকায় সরকারি আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সাধারণ ছুটি হিসেবে গণ্য হবে। লকডাউন চলাকালীন চিহ্নিত ওয়ার্ডে যানবাহন ও জন-চলাচল ও দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

এছাড়া প্রত্যেককেই অবশ্যই ঘরে থাকতে হবে। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নতুনভাবে জোন ভিত্তিক লকডাউন ঘোষণা এবং তা যথাযথভাবে পালনের বিষয়ে তিনি বলেন,  সরকার একই সঙ্গে সারা দেশে লকডাউন না করে অধিকতর ভাবে সংক্রমণ প্রবণ এলাকা চিহ্নিত করার প্রেক্ষিতে আগামী ১৬ তারিখ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে।
এই পদক্ষেপ যথাযথভাবে কার্যকর হলে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় শতভাগ সফল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জীবন ও জীবিকার সমন্বয়ে করোনা মহামারি প্রতিরোধে ইতিবাচক ফলাফল নিশ্চিত করতে   স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ যেসব কর্তৃপক্ষের উপর দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে তাদের সতর্কতার সঙ্গে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, লকডাউন কালীন আরোপিত বিধি নিষেধগুলো শতভাগ  প্রয়োগ করা হয়।

বৈঠকে চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোস্তফা খালেদ আহমেদ, বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের (বিআইআর) এর সিও লে. কর্নেল মাহবুব, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রবিউল আলম, চসিক প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, চসিক আইসোলেশন সেন্টারের পরিচালক ডা. সুশান্ত বড়ুয়া, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভাগীয় সমন্বয়ক ডা. আইমং প্ররু ও সিইও ইয়াছিন মিয়া, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক হানিফ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।