মানবতার সেবায় প্রবাসী মীর সোহেল রানা


Admin   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

গাজীপুর প্রতিনিধি:প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের থাবায় থমকে গেছে বিশ্ব। শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি। চারিদিকে করোনাভাইরাস আতঙ্ক কাটেনি এখনো। অনেকেই দুঃসময় পার করছে। ঠিক সেই সময় কাপাসিয়ায় মীর সোহেল রানা নামে এক প্রবাসী হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। নিজেস্ব অর্থায়নসহ সহযোগিতা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন তার সহযোগিতা। দায়িত্ব নিয়েছেন দরিদ্র এতিম ছাত্রের। দিচ্ছেন লেখা-পড়ার যাবতীয় খরচ।

জানা গেছে, মীর সোহেল রানা একজন সৌদি আরব প্রবাসী। দেশের বাহিরে থাকছেন ১৩ বছর ধরে। তবুও কাজ করছেন নিজ এলাকার অসহায় হতদরিদ্র মানুষের কল্যাণে। নিয়মিত খোঁজ-খবর নিচ্ছেন তাদের। নিজে সরাসরি কাজ করতে না পারলেও সহযোগিতা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

বর্তমানে তিনি ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। নিজের কাজের ফাঁকে সংগঠনের জন্য সংগ্রহ করছেন ফান্ড। দুযোর্গকালীন সময় অসহায় মানুষদের জন্য বিতরণ করছেন বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী। সংগঠন ছাড়াও মীর সোহেল তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে অংশগ্রহন করছেন সামাজিক কর্মকান্ডে।
ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, তাদের সেচ্ছাসেবী সংগঠনের বৃহৎ অর্থ মীর সোহেল রানা সংগ্রহ করেন। ব্যক্তিগত ভাবেও অনেক অর্থ দিয়েছেন মানুষের কল্যাণে। তিনি করোনা দুর্যোগের শুরুতে ঘোষণা দিয়েছিলেন, উপজেলার কাউকে না খেয়ে অভুক্ত থাকতে হবে না। ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষদের পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী প্রদান করেছেন। এ ছাড়া সাধারণ মানুষের জন্য মাস্ক, হ্যান্ড স্যানেটাইজার ও সাবানসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করেছেন।

তিনি কাপাসিয়া উপজেলায় কর্মহীন হতদরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী দিয়েছেন। মানুষের ঘরে ঘরে পৌছে দিয়েছেন ঈদ উপহার। দায়িত্ব নিয়েছেন অসহায় এতিম ছাত্রের। সমাজে অবহেলিত অক্ষম ব্যক্তিদের চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করছেন মীর সোহেল। তাই এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে সঙ্গী হয়ে আছেন তিনি।

সহযোগিতা ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি মীর সোহেল রানার কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২০১২ সালে প্রথম মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করার মাধ্যমে আমাদের যাত্রা শুরু। আমি এতিমদের নিয়ে কাজ করতে চাই। এখনও এতিম শিশুদের খোঁজে আমরা কাজ করছি। লেখা-পড়ার দায়িত্ব নিয়েছি। আমার স্বপ্ন একটি এতিমখানা করব। এদের নিয়ে কাজ করার পর নিজের শখগুলোও কমে গেছে। নিজের বাড়তি খরচগুলো কমিয়ে তাদের জন্য অর্থ দিচ্ছি। আমি একটি সমৃদ্ধশালী কাপাসিয়া গড়তে চাই।