সাধারণ মানুষের পুলিশ সুপার হিসেবে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন আবিদা সুলতানা


Admin   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ১৫ জুন, ২০২০

বৃত্তের বাহিরেও যিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা। চলমান করোনা সংকটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার দিক নির্দেশনা প্রদানের পাশাপাশি সমাজে নির্যাতিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সত্যিকার অর্থেই সাধারণ মানুষের পুলিশ সুপার হিসেবে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন এই নারী পুলিশ সুপার।

জানা গেছে, অসুস্থ বৃদ্ধা মায়ের চিকিৎসার টাকা যোগাড় করতে দুই লিটার সয়াবিন তেল চুড়ির সময় ধরা পরে প্রভাবশালী পরিবহন নেতার পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার কিশোর মমিনুলের পাশে দাঁড়িয়েছে আবিদা সুলতানা। তিনি বৃহস্পতিবার (১১জুন) সকালে শহরের অদূরে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পে নির্যাতনের শিকার কিশোর মমিনুলের বাড়িতে খাদ্য সহায়তা নিয়ে উপস্থিত হন। এ সময় তিনি অসুস্থ বৃদ্ধা মায়ের চিকিৎসার জন্য অর্থ সহায়তা করেন। আবিদা সুলতানা বলেন, যাদের সেবক আমরা তাদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অধিকারটা সুনিশ্চিত করার দায়িত্বটা আমাদেরই। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার দিক নির্দেশনা প্রদানের পাশাপাশি সমাজে নির্যাতিত ও অসহায় মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাবে পুলিশ। নির্যাতিত কিশোর মমিনুল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সে পরিস্থিতির শিকার হয়ে তার মায়ের চিকিৎসার জন্য সামান্য কিছু তেল চুরি করেছিল। কিন্তু সেই অপরাধে তাকে প্রকাশ্যে দিবালোকে নির্যাতন করার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি আরও বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া কারো উচিত নয়। এ ঘটনার পর পরই অভিযুক্তদের পুলিশ গ্রেপ্তারে করতে সক্ষম হয়েছে। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দোষীদের বিচার হবে বলে জানান তিনি।  উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে লালমনিরহাট শহরের প্রাণকেন্দ্র মিশন মোড়ে প্রকাশ্যে দিবালোকে শত শত মানুষের সামনে  নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটলেও রাতের দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নির্যাতনের ঘটনাটি সবার নজরে আসে। এরপর রাত ১১ টার দিকে পুলিশ সুপার ভিডিওটি দেখে তাৎক্ষনিক সদর থানার ওসিকে মাহফুজ আলমকে নির্দেশ দেন নির্যাতিত কিশোরকে উদ্ধার পূর্বক চিকিৎসা নিশ্চিত ও নির্যাতনকারীদের গ্রেপ্তারের। এছাড়া পুলিশ সুপার রাত ৩টা পর্যন্ত থানা পুলিশের অভিযান মনিটরিং করেন এবং নির্যাতনকারী মূল হোতা পরিবহন নেতা আশরাফ আলী লালের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করেন। সেই সাথে রাতেই নির্যাতিত কিশোরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পুলিশ পরদিন দুপুরে আটক পরিবহন নেতাকে জেল হাজতে পাঠান এবং আরও দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করেন।