সিলেটে বেড়েই চলছে নদী ভাঙন (ভিডিও)


Admin   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ১৫ জুন, ২০২০

ভারতের বরাক উপত্যকা থেকে নেমে আশা সুরমা কুশিয়ারার মিলন স্থল সিলেটের সীমান্ত এলাকা জকিগঞ্জ। শীতকালে নদী ভাঙন হলেও এবার বর্ষায় শুরুতে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে বিপর্যস্ত উপজেলার কয়েক হাজার পরিবার।

চলতি বর্ষায় সুরমা নদী ভাঙনের কবলে উপজেলার আটগ্রামের নালুহাটি গ্রামের শতাধিক পরিবার। ইতোমধ্যে সুরমা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে ঘর, বাড়ি, মসজিদ, কবরস্থান ও ফসলি জমি। ভয়াবহ এ ভাঙনের ফলে নদীর পানি বিপদসীমা ক্রস করলে বন্যার কবলে পড়তে পারে পুরো উপজেলা। অথচ এ সব ভাঙন এলাকায় কাজ হয়েছে গত বছর। অপরদিকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কুশিয়ারা নদীর ভাঙন রয়েছে উপজেলার ছবড়িয়া, মানিকপুর, রারাই, সেনাপতিরচক ও জকিগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে। বর্তমানে নদীর পানি বৃদ্ধি আর ভাঙনের ফলে বন্যার আতঙ্কে এলাকাবাসী। সীমান্ত এলাকার ভাঙনগুলোতে দ্রুততার সাথে ব্যবস্থা না নিলে আঘাত আসবে বাংলাদেশের মানচিত্রে। আটগ্রামের নালুহাটি গ্রামের বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর শীতকালে ভাঙন শুরু হতো, এবার বর্ষার শুরুতেই ভাঙন দেখা দিয়েছে। সুরমা নদীর পানিতে ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে মসজিদ কবরস্থানসহ অনেক বাড়ি। পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রতিবছর কাজ করে কিন্তু তা টিকে থাকে না। আমরা এলাকার মানুষ প্রতিবছর ঘর বাড়ি হারিয়ে পথে বসছি।  এদিকে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুজ্জামান সরকার আরটিভিকে জানান, সিলেট জেলায় সুরমা নদীতে ৫৪টি, কুশিয়ারা নদীতে ৩৮টি ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙন রয়েছে। এ ছাড়া নদী ভাঙন রয়েছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ৩৯ কিলোমিটার জায়গায়। পানি উন্নয়নের বোর্ডের দাবি এলাকার মানুষ জমি না দেয়াতে ভাঙন প্রতিরোধে ভালোভাবে কাজ করতে পারে না পানি উন্নয়ন বোর্ড। বর্তমানে জকিগঞ্জ সীমান্তের ২৫০০ কোটি টাকার ব্লক এবং বাঁধ নির্মাণের কাজ আটকে আছে পরিকল্পনা কমিশনে। দ্রুততার সহিত ভাঙন প্রতিরোধে কাজ না করলে আঘাত আসবে অন্তত হাজারখানেক পরিবারের ওপর।