স্ত্রীকে শিক্ষা দিতে শাশুড়িকে আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ!


Admin   প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২৮ জুলাই, ২০২০

ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ শাশুড়িকে আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে এক কুলাঙ্গার জামাই। এমন নেককার ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলায়।

স্বামীর অবাধ্য স্ত্রী, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মাঝে মধ্যেই ঝগড়া-ঝাটির সৃষ্টি হতো দুজনের মধ্যে। একপর্যায়ে বাপের বাড়িতে স্ত্রী চলে গেলে পরবর্তীতে স্বামীর সাথে ভালোভাবে যোগাযোগ রাখেনি। একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে বিচার সালিশ হলেও কোন সুফল আসেনি তাদের সংসারে।

ময়মনসিংহে স্ত্রীকে শিক্ষা দিতে শ্বাশুড়িকে ধর্ষণ করে আইয়ুব আলী নামে এক লম্পট মেয়ের জামাই। পরে ওই ভিডিও ছেড়ে দেয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এ ঘটনায় শ্বাশুড়ির অভিযোগে রোববার তাকে ঢাকার উত্তরা থেকে গ্রেফতার করে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ। পরে ওইদিন রাতেই ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায় তাকে হস্তান্তর করা হয়। গ্রেফতাকৃত আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে সোমবার কোতোয়ালী মডেল থানায় ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফির দু’টি মামলা হয়েছে। সে মুক্তাগাছা উপজেলার চাপুরিয়া গ্রামের সিরাজ আলীর ছেলে।

থানা পুলিশ ও ধর্ষিতার পরিবার জানায়, উপজেলার চাপুরিয়া গ্রামের সিরাজ আলীর ছেলে মোটর চালক আইয়ুব আলীর সাথে দশ বছর আগে একই উপজেলার নরকোনা গ্রামের শাহজাহান মিয়ার মেয়ে শাহিদার বিয়ে হয়। এরই মধ্যে তাদের সংসারে আট বছরের একটি ছেলে সন্তানও রয়েছে। বছর দেড়েক আগে আইয়ুব আলী তার স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য চাপ দেয়। যৌতুক না দেয়ায় স্ত্রীসন্তানকে তার শ্বশুর বাড়ীতে পাঠিয়ে দেয়। এর পর কোনো ধরণের যোগাযোগ রক্ষা না করায স্ত্রী শাহিদা আক্তার স্বামীর বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ আদালতে যৌতুক আইনে মামলা করেন। এ নিয়ে দু’টি পরিবারের মাঝে কয়েক বছর ধরেই চলছিল টানাপোড়ন ।

গত রমজান মাসে মেয়ের জামাতা আইয়ুব আলী তার ছেলের জন্য নতুন জামাকাপড় ও কিছু নগদ টাকা দিবে বলে শ্বাশুড়িকে ডেকে আনে মুক্তাগাছা শহরে। শ্বাশুরী তার কথা বিশ্বাস করে মুক্তাগাছা শহরে আসে। এরপর ভালো জামা কিনে দেবার কথা বলে শ্বাশুড়িকে নিয়ে যায় ময়মনসিংহ শহরের একটি আবাসিক হোটেলে। পরে সেখানে আটকে রেখে আইয়ুব আলী তার শ্বাশুড়িকে ধর্ষণ করে। এ সময় ওই চিত্র সে আবার গোপনে ভিডিও ধারণ করেও রাখে। মানসম্মানের ভয়ে শ্বাশুড়ি ঘটনাটি সে ওই সময় কাউকে জানায়নি।

এরপর আরও কয়েকদিন লম্পট আইয়ুব আলী তার শ্বাশুরীকে ফোন করে ময়মনসিংহ যেতে বলে। তাতে সাড়া না দেওয়ায় শ্বশুড় বাড়ির এক যুবকের ইমু নম্বরে মোবাইলে ধারণ করা ধর্ষণের ওই ভিডিওটি ছেড়ে দেয়।

এ ঘটনায় আইয়ুব আলীর শ্বশুড় শাহজাহান মিয়া তার স্ত্রীকে বাড়ী থেকে বের করে দেয়। পরবর্তীতে ধর্ষিতা বাদী হয়ে এ ঘটনায় মুক্তাগাছা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ময়মনসিংহের কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার বলেন, আটককৃত মেয়ের জামাই আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও পূর্ণগ্রাফির দু’টি মামলা হয়েছে। সে তার স্ত্রী ও শ্বশুড় বাড়ির লোকজনকে শিক্ষা দিতেই এ কাজটি করেছে।